ছাপাখানার বিকাশে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
Upendrakishore Roychowdhury's role in the development of printing

ছাপাখানার বিকাশে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
ভূমিকা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে এক অসামান্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি শুধুমাত্র একজন সাহিত্যিকই ছিলেন তা নয়, একজন দক্ষ চিত্রকর, প্রকাশক, শখের জ্যোতির্বিদ, বেহালাবাদক ও সুরকারও ছিলেন। তবে বাংলা মুদ্রণ শিল্পে তাঁর অবদানই তাঁকে সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় করে তুলেছে।
আধুনিক ছাপাখানা প্রতিষ্ঠাঃ
ছাবাখানার ইতিহাসে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সবচেয়ে বড় অবদান ১৮৯৫ সালে ‘ইউ রায় এন্ড সন্স’ প্রতিষ্ঠা। এখানে মুদ্রণের জন্য তিনি উন্নতমানের প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেন। এই ছাপাখানাটিই পরবর্তীকালে বাংলা মুদ্রণ শিল্পের একটি নতুন যুগের সূচনা করে।এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ‘প্রসেস-মুদ্রণ‘ শিল্পের বিকাশ শুরু হয়। ছাপাখানা বিষয়ে তার লেখা ইংল্যান্ডের ‘পেনরোজ অ্যানুয়াল’ নামক বিখ্যাত জার্নালে নিয়মিত ছাপা হতো।

হাফটোন মুদ্রণ পদ্ধতিঃ
ভারতে ‘হাফটোন প্রিন্টিং’ পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। তিনি ইংল্যান্ড থেকে আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র এবং হাফটোন ব্লক মুদ্রণের প্রযুক্তি নিয়ে এসে গবেষণা করেন। গবেষণা করে বাংলায় হাফটোন মুদ্রণ পদ্ধতির প্রচলন ঘটান। এই পদ্ধতির ফলে ছবিগুলো আরও স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে মুদ্রিত হতে শুরু করে।
স্টুডিও স্থাপনঃ
উপেন্দ্র কিশোর তার ছাপাখানার সঙ্গে ছবি আঁকার জন্য একটি স্টুডিও খোলেন। এখানে তিনি আধুনিক ফটোগ্রাফি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। হল স্বরূপ তিনি সাদাকালো ছবি প্রচলন এর যুগে ছোটদের জন্য রংবেরঙের বিভিন্ন বই প্রকাশ করতে সক্ষম হন। শুধু তাই নয়, আধুনিক ফটোগ্রাফি ও মুদ্রণ শিল্প সম্পর্কে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য তিনি তার পুত্র সুকুমার রায়কে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে পাঠান।
শিশু সাহিত্য ও মুদ্রণঃ
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ১৯১৩ সালে ‘সন্দেশ’ নামে একটি শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকাটি মানসম্পন্ন মুদ্রণ এবং আকর্ষণীয় চিত্রের জন্য খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। ‘সন্দেশ’ পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি শিশুসাহিত্যের জগতকেও সমৃদ্ধ করেন।
প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিতরণঃ
উপেন্দ্রকিশোর শুধু নিজেই কাজ করতেন না, বরং অন্যদেরও এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতেন। তাঁর অবদানের ফলে অনেক মানুষ মুদ্রণ শিল্পের আধুনিক কৌশল সম্পর্কে জানতে পারে এবং এই শিল্পে উন্নতি লাভ করে।
উপসংহার
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বাংলা মুদ্রণ শিল্পে এক বিপ্লব সাধন করেছিলেন। তাঁর অবদানের ফলে বাংলা মুদ্রণ শিল্প আধুনিক যুগে পদার্পণ করে। তিনি শুধুমাত্র একজন প্রকাশকই ছিলেন তা নয়, একজন উদ্ভাবক ও গবেষকও ছিলেন। তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।